রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
এম বশির উল্লাহ .মহেশখালী:
কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রাকৃতিক প্যারাবনগুলো দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সংরক্ষিতসহ নানা ধরনের বনাঞ্চলগুলো সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেও হুমকির মুখে। এর মধ্য দিয়ে মানুষকেও বন ধ্বংসে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যেমনটি দেখা গেল কক্সবাজারে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পশ্চিমে। সেখানকার বেড়িবাঁধ এলাকায় গ্রাম রক্ষার জন্য তৈরি করা প্যারাবনের (ম্যানগ্রোভ) বিশাল অংশ রাতারাতি উজাড় করে ফেলেছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধির নেতৃত্বে প্রভাবশালীরা। প্রায় ৮০ একর জমির হাজার হাজার গাছ কেটে ভূমি দখল করে চিংড়িঘের তৈরী করছে তারা। প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই দুর্বৃত্তায়ন। ক্ষমতাচর্চার যে সংস্কৃতি এ দেশে গড়ে উঠেছে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলা যায় একে।
স্থানীয়রা জানান, হোয়ানক ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য সম্প্রতি সময়ে পুলিশের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করা স্থানীয় আনজুমিয়ার পুত্র মো: আনছার এই বিশাল প্যারাবন নিধনকান্ডে সরাসরি জড়িত রয়েছে এবং তার নেতৃত্বে মুলত সরকারী প্যারাবন কেটে রাতারাতি চিংড়িঘের তৈরী করা হচ্ছে , এদিকে এই বিষয়ে কিছুই জানে না মহেশখালী উপজেলা বন বিভাগের কর্মর্কতাগণ।

প্যারাবন নিধনকান্ডে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো: আনছার
জানা গেছে, হোয়ানক ইউনিয়নের পশ্চিমে ছৈয়দুল হক সিকদারের ঘোনার দক্ষিনে সুইস্ গেইট সংলগ্ন এলাকার প্যারাবনের প্রায় ৮০ একরের জলাভূমি ইতিমধ্যে দখল হয়ে গেছে। ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য। অপকর্ম লুকাতে কাটা গাছের গোড়ালি ঢেকে দেওয়া হচ্ছে মাটি ও বালু ফেলে।
অথচ নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ, দখল বন্ধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে এ দখলবাজি চালানো হলো প্রশাসনের কোনো বাধা ছাড়া। দখলদারদের কেউ কেউ প্যারাবনের জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন। সেসব জমি মানুষকে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা জানান এসব দখলদারদের মধ্যে দ্বন্দ-সংঘাতও চলছে। মহেশখালী থানার ৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্যারাবন দখলের এ ঘটনা ঘটেছে। সেসব জমি ব্যক্তিগত হিসেবে দেখানোর ভুয়া দলিলপত্রও সংগ্রহ করেছেন দখলদারেরা। এ দখলবাজিতে স্থানীয় ভূমি অফিসের মদদ ছিল বলে অভিযোগ আছে। এটিও বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছাড়া এত বিপুল অর্থের কারবারও অসম্ভব। কয়েক বছরের মধ্যে প্রশাসন ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীরা মিলে সেই বনকে অস্থিত্বহীনতার মুখে ফেলে দিয়েছেন, সেই সঙ্গে মহেশখালীর শহর রক্ষাকেও। এবারের জলবায়ু সম্মেলনে বন রক্ষায় বাংলাদেশ যে সম্মতি দিয়েছে, তার মুখ রক্ষা করতে পারবে কি সরকার? আমরা দেখতে চাই পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আনছারে মুঠোফোন বন্ধ থাকার কারনে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, বিষয়টি সম্পকে ইতিমধ্যে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে তারা দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আমাকে, তারপরেও আমরা বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।
ভয়েস/ জেইউ।